পকেট শূন্য শাকিল ছুঁটছে মানবতার কল্যাণে। কখনো আর্থিক সহায়তা, কখনো কায়িক শ্রম দিয়ে যাচ্ছে সমাজ ও মানুষের প্রয়োজনে। স্থানীয় দরিদ্র-অসহায় মানুষেরা যেকোন প্রয়োজনে শাকিলের মুঠোফোনে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে সহায়তা চায় স্বপ্নবাজ শাকিলের কাছে। কিন্তু নিজের পকেট শূন্য হলেও শাকিল থেমে থাকে না। মানুষের সমস্যা তুলে ধরে নিজের ফেসবুকে আবার কখনো কখনো তাঁর পরিচিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে। মানুষের অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা কাজে লাগিয়ে শাকিল অন্যের সহায়তা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের তরুণ ইসমাইল হোসেন শাকিল এলাকায় পরিচিত জিএম শাকিল নামে। পুরো উপজেলার মানুষ যাকে একজন নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এক নামে চেনে। শাকিলের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাত্রা শুরু ২০১৮ সালের মে মাসে। যদিও তার আগেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। একই বছরের শেষ দিকে যখন চাটখিলের তরুণদের নিয়ে জনপ্রিয় সংগঠন স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (এসডিএফ) গড়ে ওঠে, তখন থেকেই শাকিল এই সংগঠনের সঙ্গে থেকে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে থাকেন।
আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। চাটখিল উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে কথা হয় জিএম শাকিলের সঙ্গে। শাকিল জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারী যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তখন শাকিল জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, মাস্ক বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শুধু তাই নয়, বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন তার স্বভাব। ঐ সময় গভীর রাতেও ছুটে চলেছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে। যখন মানুষ পরিবার-পরিজনকে পাশে পায়নি, তখন শাকিল ভয়কে জয় করে মানুষের পাশে ছিলেন।
ত্রাণসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে বিনামূল্যে রক্তদান, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, রাস্তা সংস্কার, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য ঢেউটিন প্রদান, বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন; সব ক্ষেত্রেই শাকিল উদ্যমী। লায়ন্স ক্লাবের সহায়তা লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে শাকিলের প্রচেষ্টায় ৪৫০ জনের বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়।
স্টুডেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তার কার্যক্রম আরও প্রসারিত হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, গণ টিকাদান কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিরলস দায়িত্ব পালন; সব ক্ষেত্রেই শাকিলের অবদান প্রশংসনীয়।
তবে তিনি কেবল একটি সংগঠনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বদলকোট, আমাদের স্বপ্ন সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি চাটখিলের বিভিন্ন সংগঠনকে একত্রিত করে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী প্যানেল অব চাটখিল। এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে রমজানে ইফতারসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে ঈদে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সঙ্গে।
এতসব কর্মকাণ্ডে শাকিল আজ চাটখিলের তরুণ সমাজের কাছে অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তার দেখাদেখি বহু তরুণ
ছুঁটে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী কাজে। শাকিল জানান, তিনি নিজেও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসায় বাবাকে সহযোগিতা করছেন। সমাজের জন্য
ব্যাপক পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি এখনই তার পক্ষে
সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি তার বন্ধু-বান্ধব এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় নানামুখী
সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানেই তার স্বপ্ন।