* মনোনয়ন বণ্টনে সিন্ডিকেট
* প্রার্থী ঘোষণায় উপেক্ষিত শীর্ষ নেতা ও তৃণমূলের মত
শাহজাহান সাজু, লোহাগড়া (নড়াইল) :
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে শরিফুল ইসলাম শরিফ নামে এক জামায়াত কর্মীকে মনোনয়ন দিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সক্রিয় কর্মী এবং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমানের আত্মীয় (ভাগ্নী জামাতা)। পেশায় শরিফুল ইসলাম একজন ডিস লাইন ব্যবসায়ী। জামায়াত থেকে মনোনয়ন দেওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে শরিফুল ইসলাম শরিফের অংশগ্রহণের কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি সংশ্লিষ্ট বেশকিছু আইডি থেকে এসব ছবি পোস্ট করা হয়েছে।
স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, মাত্র কয়েক বছর আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন শরিফুল ইসলাম শরিফ। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর অংশগ্রহণের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ছিলনা কোনো মামলা কিংবা কারাবরণের রেকর্ড। সম্প্রতি সংগঠনের তৃণমূল এবং স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ দায়িত্বশীল নেতাদের মতামত না নিয়েই লোহাগড়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাদিউজ্জামান কাশিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে শরিফুল ইসলাম শরিফকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এতে করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তৃণমূলের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাদের মাঝেও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা জানান, মূলত জেলা ও লোহাগড়া উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ দুই-তিনজন নেতার ব্যক্তিগত পছন্দে শরিফুল ইসলাম শরিফকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্বশীলদের মতামত উপেক্ষা করে এ মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এতে করে সংগঠনের ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী মোঃ সাকিব বলেন, ডিস লাইন ব্যবসার মাধ্যমে অশ্লীলতার প্রসার হয়। তাছাড়া যিনি আওয়ামী লীগের সাথে যুক্তও ছিলেন আগে, তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া উচিত হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা হাদিউজ্জামান বলেন, শরিফুল ইসলাম শরিফকে জেলা জামায়াতের শুরা ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সে ৫ আগস্টের আগ থেকেই জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত। আওয়ামীলীগের কোনো পদে সে ছিলনা। জামায়াতে আসার আগে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে ছবি থাকা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান তিনি। ডিস লাইনের ব্যবসা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে এটি একজনের ব্যক্তিগত বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাথে অতীত সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে সদ্য ঘোষিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, আমি ৫ আগস্টের আগ থেকেই জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত। সাংগঠনিকভাবেই আমাকে নির্বাচন করার জন্য বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে ছবি থাকা বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এলাকায় আওয়ামী লীগের এমপি একবার এসেছিল। তখন ওই জায়গা দিয়ে আমি গেলে আমার ছবি তুলে রাখে৷ এগুলো আমার কিছু শত্রুরা ছড়াচ্ছে।