দেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও ধান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ চলমান প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নেতৃত্ব সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারিস্টস এলায়েন্স অব বাংলাদেশ (NAAB)। সংগঠনটি বলছে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাবের প্রধান সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রি উন্নত ধানের জাত উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার মাধ্যমে দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব সংকট এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিতর্কের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রকাশ্য গ্রুপিং ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মহাপরিচালক পদে দীর্ঘ সময় স্থায়ী নেতৃত্বের অভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ গবেষণাগার কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের গবেষণা, ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া সম্প্রতি ব্রির মহাপরিচালক পদে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নাবের মতে, একটি বিশেষায়িত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কৃষি গবেষণা-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা। অতীতে ব্রির মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সাধারণত গবেষণা ও কৃষিবিজ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে গবেষণার ধারাবাহিকতা ও পেশাগত পরিবেশ বজায় থাকে।

সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নাব মনে করে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত দক্ষতা, গবেষণায় অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চলমান পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন এবং যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্রির কার্যক্রমকে গতিশীল করার দাবি জানিয়েছে।

পাশাপাশি মহাপরিচালক পদকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগ, অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার জন্য তদন্ত বা কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রির স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।